Originally posted in সমকাল on 13 January 2026

সোলার হোম সিস্টেম নামে পরিচিত সৌরবিদ্যুতের ৪৭ শতাংশ স্থাপনা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর অন্যতম কারণ গ্রিড-লাইনের মাধ্যমে দেওয়া বিদ্যুতের অপরিকল্পিত সম্প্রসারণ। প্রযুক্তি ও উপকরণ এবং গ্রাহকের আর্থিক সীমাবদ্ধতা সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার কমার আরেকটি বড় কারণ।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও সমকালের যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি পরিচালিত এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের লক্ষ্য ছিল, বাংলাদেশে গ্রিডবিহীন সোলার হোম সিস্টেমের ব্যবহার কমার কারণ চিহ্নিত করা এবং কার্যকর বিকল্প অনুসন্ধান। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি প্রথমবারের মতো কোনো সংবাদপত্রের সঙ্গে এ ধরনের কাজে নিজেদের যুক্ত করেছে।
জরিপের ফলাফল বলছে, সোলার হোম সিস্টেম (এসএইচএস) ব্যবহারে বেশ কিছু সংকট এই সবুজ জ্বালানির প্রতি মানুষের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিডে সংযুক্ত রুফটপ (ছাদের ওপর) সোলার এ খাতে আশার সঞ্চার করছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের বেশির ভাগ পরিবারে গ্রিড বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। সৌরশক্তি তাদের কাছে আর অত্যাবশ্যকীয় নয়, বড়জোর সম্পূরক উৎস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার প্রতি সরকারের যে অঙ্গীকার, তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দেশের ২৯ জেলার ৪৮০টি খানা বা পরিবারের ওপর এই জরিপ পরিচালিত হয়। জাতীয় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে জরিপে বাংলাদেশের সব, অর্থাৎ আটটি বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সর্বজনীন বিদ্যুতায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাতীয় প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চালু হওয়া সোলার হোম ১৯৯০ সালের পর তিন দশক জাতীয় গ্রিডের বাইরে একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়। সরকারি উদ্যোগ, উন্নয়ন সহযোগী এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় লাখো পরিবার বাসাবাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম গ্রহণ করে। এর ফলে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিদ্যুৎ পাওয়া সহজ হয়।

তবে কয়েক বছর ধরে সোলার হোম সিস্টেমের ব্যবহার কমে যাচ্ছে। জাতীয় গ্রিডের অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের কারণে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণ হয়েছে– এমন এলাকায়ও গ্রিড বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি লোডশেডিং তুলনামূলক কমতে থাকায় গ্রাহকদের আর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়নি। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, গ্রিডের বিদ্যুৎ নির্ভরযোগ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী।
ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল) সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় সোলার হোম সিস্টেম বাস্তবায়ন ও বিস্তারে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। ২০১৮ সালের মধ্যে এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৪১ লাখের বেশি সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়। এতে দুই কোটির বেশি মানুষের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যায়। কেবল গৃহস্থালিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়; এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র আকারের আয়বর্ধক কার্যক্রমও সহায়তা পায়। পাশাপাশি শিক্ষার উন্নয়নসহ নানা সামাজিক সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটতে থাকে।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সৌরবিদ্যুতের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০০০ সালের পর থেকে দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ২০১৯ সালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ২০২০ সালের পর টানা এর ব্যবহার কমতে থাকে। সিপিডি-সমকালের জরিপে দেখা গেছে, ইডকলের সোলার হোম সিস্টেম এবং টিআর-কাবিটার সৌর প্যানেলের ব্যবহার ও কার্যকারিতা কমে যাওয়ার প্রবণতা বেশি। তবে ব্যক্তিগত বাড়ি, অফিস ও কারখানার ছাদে সৌর স্থাপনা ব্যবহারে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
জানতে চাইলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান সমকালকে বলেন, ‘সোলার হোম সিস্টেমের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন আমরা মান নিয়ন্ত্রণের দিকে জোর দিচ্ছি। প্যানেল এবং ব্যাটারির মান কী হবে, তা বলে দেওয়া হচ্ছে।’
উপদেষ্টা বলেন, কাবিটার অধীন সৌর প্যানেল স্থাপন প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনেকেই এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তারা নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করেছেন। ইডকলের সোলার হোম সিস্টেম প্রথম দিকে সফল ছিল।
গ্রিড ও গ্রিডের বাইরের অনুপাত
জরিপের আওতায় থাকা জেলাগুলোর মধ্যে সামগ্রিকভাবে ৯৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা এখন সরাসরি বিদ্যুতের গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত। মাত্র ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এখনও সম্পূর্ণভাবে গ্রিডের বাইরে আছেন।
জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ জেলায় জরিপে অংশগ্রহণকারী পরিবারগুলো শতভাগ গ্রিডের আওতায় এসেছে। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬.২৫ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২.৭৮ শতাংশ, গাইবান্ধায় ৮.৩৩ শতাংশ ও নোয়াখালীতে ১৬.৬৭ শতাংশ পরিবার অফ-গ্রিড বা লাইনের বিদ্যুতের বাইরে রয়েছে।
প্রধান প্রধান প্রতিবন্ধকতা
গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত নয় এমন পরিবারে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বন্ধের পেছনে মূলত রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সংকটের তথ্য জানিয়েছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। তারা এই ব্যবস্থাকে টেকসই নয় বলেও মন্তব্য করেছেন।
ইডকলের গ্রাহকের মধ্যে যারা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধ করেছেন, তাদের প্রায় ৪৪ শতাংশ ব্যাটারিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। টিআর/কাবিটা ও রুফটপ ব্যবহারকারীর মধ্যে এ হার ৫০ শতাংশ।
টিআর/কাবিটা গ্রাহকের ৩৩ শতাংশ বলেছেন, গ্রিড বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণে তারা সোলার হোম সিস্টেম বন্ধ করেছেন। ইডকল গ্রাহকের ক্ষেত্রে এ হার ১১ শতাংশ। রুফটপ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে যা ২৯ শতাংশ।
এর বাইরে আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং প্রযুক্তিগত জটিলতাও কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সামগ্রিকভাবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং গ্রিড বিদ্যুতে প্রবেশাধিকার সৌরশক্তি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসার কারণ বলা যায়।
প্রধান সমস্যা ব্যাটারি
জরিপে ৪০টি কমিউনিটিতে দেখা গেছে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সাধারণ সমস্যা হলো এর ব্যাটারি। স্থানীয় মেরামতকারীরাও বারবার বলেছেন, ব্যাটারি নিয়েই সবচেয়ে বেশি সমস্যা; প্রায়ই প্রতিস্থাপন বা মেরামতের প্রয়োজন হয়। এই ব্যবহারকারীরা ব্যাটারি বিকলকে সৌরশক্তি ব্যবহার বাদ দেওয়া বা এড়িয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ব্যবহারকারী ও সেবা প্রদানকারী– উভয় পক্ষের অভিযোগ মিলিয়ে ব্যাটারি সমস্যাই সোলার হোম সিস্টেমের বড় দুর্বলতা হিসেবে জরিপে উঠে এসেছে।
ব্যাটারি সম্পর্কিত সমস্যা সৌর স্থাপনার ত্রুটির সবচেয়ে বড় কারণ বলে প্রায় ৭৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন। পরিবেশগত কারণ, যেমন– বজ্রপাতের কারণে স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা বলেছেন প্রায় ১৪ শতাংশ উত্তরদাতা। ঢিলেঢালা সংযোগকে ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ৫ শতাংশ উত্তরদাতা। আর ৫ শতাংশ উত্তরদাতা নিম্নমানের সোলার পণ্যকে দায়ী করেছেন।
জরিপে উত্তরদাতারা বলেছেন, ব্যাটারির মান, টেকসই ও রক্ষণাবেক্ষণ সহায়তা উন্নত করলে সোলার সিস্টেমের ব্যর্থতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
প্রযুক্তিগত বা উপাদানভিত্তিক মেরামতের ক্ষেত্রে খরচ তুলনামূলক বেশি বলে জানিয়েছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। মেরামত সেবার মধ্যে ব্যাটারির পানি পূরণের গড় খরচ সর্বনিম্ন ১৫২ টাকা। ত্রুটিপূর্ণ স্থাপনা সংশোধনের খরচ গড়ে ২৭০ টাকা। তার ও সংযোগ মেরামতের খরচ গড়ে ২২০ টাকা।
উত্তরদাতার অধিকাংশই বলেছেন, প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার তাদের ত্রুটি মেরামত করতে হয়। এক-তৃতীয়াংশ বলেছেন, বছরে একবার মেরামত করতে হয়। বারবার মেরামত করার কারণে তাদের বাড়তি ব্যয় হয়।
কার্যকারিতা
ইডকল সোলার হোম সিস্টেম এবং টিআর/কাবিটা সৌর প্যানেলের কার্যকারিতা যথাক্রমে প্রায় ৪৯ শতাংশ ও ৪৪ শতাংশ বলে জরিপে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য শ্রেণির সৌর প্যানেলের কার্যকারিতা ৫৬ শতাংশ। কার্যকারিতার দিক থেকে ব্যক্তিগত রুফটপ স্থাপনা অন্যান্য ধরনের তুলনায় এগিয়ে আছে। ব্যক্তিগত রুফটপ সিস্টেমের কার্যকারিতা সর্বোচ্চ ৭৭ শতাংশ। আবার জেলাভেদে কার্যকারিতার হারে উল্লেখযোগ্য ভিন্নতা দেখা গেছে।
এখনও ঘরে আলো জ্বালানোর জন্য বেশির ভাগ মানুষ প্রধানত গ্রিড বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে। তাদের কাছে সৌরশক্তি একটি সম্পূরক উৎস হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। বলা যায়, সামগ্রিকভাবে সৌরসিস্টেম জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়িয়েছে, তবে এখনও জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারেনি।
জরিপ এলাকাগুলোতে দৈনিক গড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। ৩৬ শতাংশ মূলত বিদ্যুৎ বন্ধের সময় এটি ব্যবহার করেন। প্রায় ২৩ শতাংশ সব সময় ব্যবহার করেন। সোলার হোম সিস্টেম ঘন ঘন লোডশেডিং মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ঘুষের ঘটনাও আছে
জরিপে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘুষ নেওয়ার কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘুষের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও সব ধরনের স্থাপনার ক্ষেত্রে উত্তরদাতার একটি অংশ ঘুষ দেওয়ার কথা বলেছেন। ২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাদের কাছে ঘুষ চাওয়া হয়েছে। ১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা ঘুষ দিয়েছেন। গড় ঘুষের পরিমাণ ২ হাজার ১০০ টাকা।
ইডকল সোলার হোম সিস্টেমে ঘুষের চাহিদা ও প্রদানের হার সবচেয়ে বেশি। জরিপে চট্টগ্রাম, গাইবান্ধা, পিরোজপুর, কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁওয়ে ঘুষ প্রদানের ঘটনা জানা গেছে।
আর্থিক সীমাবদ্ধতা
আর্থিক সীমাবদ্ধতা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উঠে এসেছে। ইডকল সোলার হোম সিস্টেম ব্যবহারকারীর মধ্যে ৪৩ শতাংশ কিস্তিভিত্তিক ঋণের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের সংযোগ পেয়েছেন। মাসিক কিস্তি গড়ে প্রায় ৬০০ টাকা। তবে এই ঋণগ্রহীতার ১৩ শতাংশ এখনও কিস্তি পরিশোধ করছেন।
ইডকল সোলার হোম সিস্টেমে গড় খরচ প্রায় ৯ হাজার টাকা। টিআর/কাবিটার সিস্টেমে খরচ তুলনামূলক কম, যা গড়ে হাজার টাকার নিচে। তবে ব্যক্তিগত রুফটপ স্থাপনায় গড় খরচ ২৩ হাজার টাকার বেশি।
মাঠ পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা
ইডকলের ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এসএইচএস স্থাপনের পর কিছু এলাকায় ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মান নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া বিক্রয়-পরবর্তী সেবার অভাবও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সমাজ উন্নয়ন পল্লী সংস্থার (এসডিআরএস) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু এলাকায় এসএইচএস স্থাপনের পর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে সিস্টেমগুলোর কার্যকারিতা কমে গেছে।
সমকালের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় সৌর স্থাপনার নানা সংকট উঠে এসেছে। কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, তাদের এলাকায় কাবিটা এসএইচএস স্থাপন করা হয়েছিল; কিন্তু ব্যাটারি দ্রুত খারাপ হয়ে গেছে। স্থানীয় সার্ভিস সেন্টারও খোলা থাকে না।
চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, কাবিটার এসএইচএস স্থাপনের পর কিছুদিন ভালো চললেও পরে ইনভার্টার সমস্যা দেখা দেয়। সার্ভিস পাওয়া কঠিন।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর গ্রামের রুহুল আমীন, সৈয়দপাড়া গ্রামের মো. রানা, বাগড়া গ্রামের রোবেল মিয়া ও বাগবাড়ী গ্রামের জাহিদুল ইসলাম জানান, ২০১৯ ও ২০২০ সালে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কাবিটা প্রকল্পের অধীনে সোলার প্যানেল পেয়েছিলেন। তারা জানান, দুই বছর ব্যবহারের পরই সোলারগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং এখন অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
জরিপ ও মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন অনুসন্ধানের ফলাফল সম্পর্কে মতামত জানতে চাইলে ইডকলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৫ সাল থেকে কয়েকটি কারণে তাদের কর্মসূচি গুরুতর সমস্যায় পড়ে। এগুলো হলো– এসএইচএসের চাহিদা বাড়ায় ওয়ারেন্টিবিহীন নিম্নমানের পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারের দিক থেকে এর জন্য যথাযথ তদারকি ছিল না। গ্রাহকরা এ বিষয়ে সচেতন না থাকায় নিম্নমানের
পণ্য কিনে প্রতারিত হন। শেষে সোলারের প্রতি তাদের আগ্রহ কমে যায়। এতে ইডকলের সোলার হোম সিস্টেম বিক্রির হার মারাত্মকভাবে কমে যায়।
এ ছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অধীনে সরকার বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম বিতরণ ও গ্রিড সম্প্রসারণের প্রভাবে গ্রাহকরা সোলারের কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে ২০১৬-১৭ সাল থেকে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগীতাকারী সংস্থাগুলোর (পিও) আর্থিক সক্ষমতা কমে যায়। পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য তারা মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
ইডকল জানায়, তারা বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে এগিয়ে নিতে আরও কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যেমন– আবাসিক ও বাণিজ্যিকভাবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, বৃহৎ পরিসরের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচ ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব রান্না প্রযুক্তি এবং বায়োগ্যাসে বিনিয়োগ।
টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ সমকালকে বলেন, সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকার জাতীয় সোলার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। সরকারের দুটি উদ্যোগ হচ্ছে– সব সরকারি অফিসের ছাদে এবং সমস্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ছাদে সৌর প্যানেল বসানো। মানে তারা রুফটপ প্রক্রিয়ার আওতায় আসছে। এখানে অর্থ মন্ত্রণালয়কে আর্থিক সহযোগিতার জন্য বলা হয়েছে। অর্থ জেলা প্রশাসক অফিসের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
মোজাফফর আহমেদ বলেন, তবে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুৎসহ বিতরণী সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করতে হবে। সৌরবিদ্যুতের পণ্যের মান-সংক্রান্ত একটা গাইডলাইন প্রায় চূড়ান্তের পথে। তাঁর মতে, প্রতিবছর বিদ্যুৎ খাতে সরকার ৪০ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। সেই অর্থের একটি অংশ যদি নবায়ন জ্বালানি খাতে মূলধনি বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে এ খাতের বিকাশ হবে। আর ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা অফিস-আদালতের বিদ্যুৎ বিল কমে যাবে।



